Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রকল্প

সিসিমপুর আউটরীচ প্রকল্প

 

সিসিমপুর হচ্ছে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক একটি মিডিয়া প্রকল্প যা পুরস্কারপ্রাপ্ত টেলিভিশন সিরিজ সিসেমী স্ট্রীটের বাংলাদেশী সংস্করণ। ২০০৫ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে নিয়মিতভাবে প্রচারিত অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে প্রয়োজনা করছে বাংলাদেশের নয়নতারা কমিউনিকেশনস্ ও নিউইয়র্কভিত্তির অলাভজনক সংস্থা সিসেমী ওয়ার্কশপ। সিসিমপুর বাংলাদেশের ৩-৬ বছর বয়সী শিশুদের শেখার চাহিদা অনুযায়ী তৈরী করা হয়। বাংলাদেশের শিশুদের চাহিদা নিশ্চিত করার জন্য সিসিমপুর-এর শিক্ষাক্রম কাঠামো তৈরি করা হয়েছে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুয়ায়ী। নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে এই কাঠামোর উত্তরোত্তর উন্নয়ন করা হয়। বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে নিয়মিতভাবে প্রচারিত সিসিমপুর শিশুরা যেমন ভালবাসে তেমনি বড়দের কাছেও সমাদৃত। সিসিমপুর-এর এই শিক্ষামূলক উদ্যোগ সফল হবে না যদি না সেই সব শিশুদের কাছে পৌছানো যায় যাদের টেলিভিশনে সিসিমপুর দেখার সুযোগ নাই। সিসিমপুর-এর শুরু থেকেই বিভিন্ন আউটরীচ কার্যক্রমের মাধ্যমে সেইসব শিশুদের চাহিদা পুরণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত সেইসব শিশুদের কথা বিবেচনায় এনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সিসিমপুর যৌথভাবে সিসিমপুর আউচরীচ প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্প বাসত্মবায়ন করবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী। প্রকল্পের কারিগরী সহয়তা প্রদান করছে সিসেমী ওয়ার্কশপ এর বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি নয়নতারা কমিউনিকেশনস্। এই প্রকল্পের আওয়াতায় উন্নতমানের প্রাক-শৈশব শিক্ষা উপকরণ তৈরি ও দেশব্যাপী বিতরণ করা হবে। উপকরণের বিষয়বস্ত্ত সিসিমপুর ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমী যৌথভাবে উন্নয়ন করবে।

 

সিসিমপুর শিক্ষা উপকরণ তৈরী করা হয় অক্ষর জ্ঞান, গণিত, বিজ্ঞান, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়বস্ত্তকে ঘিরে। এছাড়াও শিশুরা যাতে বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করতে পাবে এবং পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে তাও শিশুদের শিখতে সহায়তা করা হয। এই প্রকল্পের শিক্ষামূলক ক্ষেত্রগুলো হলো: অক্ষর জ্ঞান ও ভাষা; সংখ্যা ও গাণিতিক ধানণা; বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান মনস্কতা; স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যবিধি, পুষ্টি ও নিরাপত্তা; সম্মান প্রদর্শন, বোঝাপড়া, সহনশীলতা ও বৈচিত্র; পরিবার, গোষ্ঠীগত ও সামাজিক সম্পর্ক; শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। 

 

প্রতিটি জেলায় ৫০টি প্রাক-প্রাথমিক স্কুল এ প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়েছে। এ ৫০টি স্কুলে নিয়মিতভাবে সিসিমপুর চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। বছরে একবার প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি-শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সিসিমপুর উপকরণ প্রদান করা হয়। প্রতিটি স্কুলে ২০ জন অভিভাবককে প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ করা হয়। এতে জেলায় ১০০০ জন অভিভাবক উপকার পাচ্ছেন।